আজ শুক্রবার, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে বায়ু দূষণ চরমে

 পরিস্কার করি আবারও বালু জমে যায়- সওজ

সৈয়দ মোহাম্মদ রিফাত
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাষাড়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ১৬ কিলোমিটার। এই পুরো সড়কে বিভাজকের দুইপাশে এমনকি রাস্তার পাশেও জমেছে বালুর স্তুপ। সময়মত পরিস্কার না করায় উড়ছে ধুলাবালি। বিশেষ করে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় পুরো সড়ক ও রাস্তার দু’পাশে থাকা দোকান-পাট। রাস্তাটি পরিস্কার সহ দেখভালের দায়িত্ব নারায়নগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ)।
যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাঃ আলিউল হোসেন দৈনিক সংবাদচর্চার নিজস্ব প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, আমরা তো রাস্তা পরিস্কার করি। হানিফ ফ্লাইওভার থেকে কাচঁপুর সড়ক পর্যন্ত আমরা তো কাজ করেছি। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডও পরিস্কার করেছিলাম আবারও বালু জমে গেছে। মূলত বালুর ট্র্রাক চলার কারণেই রাস্তায় বালু জমে যায়। তবে আমরা আবারও ধুলাবালি পরিস্কার করবো।
সরোজমিনে চাষাড়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, ১২ কিলোমিটার রাস্তার বিভাজকের দু’পাশে বালুর স্তুপ। আবার কোথাও বালুর সাথে যুক্ত আছে মাটি। বালুর ওপর পরে আছে কাগজ, বিভিন্ন দ্রব্যের খালি মোড়ক, টিস্যু পেপারসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। রাস্তার দু’পাশে গাড়ি চলছে আর ধুলাবালি বাতাসে উড়ছে। সেই সাথে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।
সরোজমিনে আরও দেখা যায়, চানঁমারী, নতুন কোর্ট, জেলা পরিষদ, জেলগেট, কায়েমপুর, সস্তাপুর, শিবু-মার্কেট, লামাপাড়া, স্টোডিয়াম, জালকুড়ি, কড়ইতলা, ভুইগড়, মাহমুদপুর ও সাইনবোর্ড স্ট্যান্ডের দুইপাশেই রয়েছে অসংখ্যা দোকান। ধুলার কারণে এসব দোকানিরা তাদের দোকানে বসে থাকতে পারেনা। তাদের অভিযোগ কিছুদিন পরপর ধুলা পরিস্কার করার নিয়ম থাকলেও কেউ আসেনা এই ধুলার স্তুপ পরিস্কার করতে। যার ফলে তাদের দূর্ভোগের শেষ নেই।
শিবু মার্কেট এলাকার দোকানিদের অভিযোগ, দিন রাত ২৪ ঘন্টা এই রোডে গাড়ি চলে। দিনের বেলা তো বিভিন্ন রকমের গাড়ি থাকেই। রাতের বেলাতে বড় বড় ট্রাক চলে। যখনই গাড়ি যায় ঠিক তখনই ধুলাবালি উড়তে থাকে। যার ফলে দোকানে বসে থাকা সম্ভব হয়না। মাঝে মাঝে আবার দোকানের শাটার ফেলে দিয়ে বসতে হয়। এই রাস্তার ধুলাবালি পরিস্কারের জন্য সরকারের লোক থাকলেও তাদের কখনই কাজ করতে দেখা যায়না। দোকানিরাই সবসময় রাস্তায় পানি দেয় যাতে করে ধুলাবালি না উড়ে।
জেলা পরিষদ এলকার দোকানিরা বলেন, অতি শীঘ্রই এই বিষয়ের দিকে কৃর্তপক্ষের দৃষ্টি দেয়া দরকার। এভাবে চলতে থাকলে রাস্তার পাশে দোকান পরিচালনা করা সম্ভব হবেনা। অল্প ধুলাও যদি উড়তো বসে থাকা যেত। কিন্তু এত পরিমানে ধুলা উড়ে যে দোকানে বসে থাকা তো দূরের কথা দোকানে আসতেও ইচ্ছা করেনা।
এ বিষয়ে বাইক চালক ইরফান আহমেদ বলেন, হেলমেট তো সবসময়ই মাথায় থাকে। রাস্তায় এত পরিমাণে ধুলা থাকে যে এই গরমের মধ্যেও রেইনকোর্ট পড়ে গাড়ি চালাতে হয়। আর তা না হলে ধুলাবালিতে জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। এই ধুলাবালি গুলো সময়মতো যদি পরিস্কার করা হতো তাহলে এ সমস্যার মধ্যে আমাদের পরতে হতো না।
রিক্সাচালক হামিদ মিয়া জানান, সারাদিন ধরে রাস্তায় গাড়ি চালায় সে। কিন্তু ধুলাবালির কারণে রাতে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় তার। তিনি বলেন, গাড়ি চালানোর সময় গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে রাখি। কিন্তু কতক্ষণ আর মুখ আটকিয়ে রাখা যায়। এই ধুলাবালির কারণেই দম বন্ধ হইয়া একদিন মরতে হইবো।
সচেতন মহলের মতে, এইসব কাজগুলো দু’একদিন পরপরই করা দরকার। কারণ এই ধুলাবালি উড়ার কারণেই হাজারো মানুষের দুর্ভোগ হয়। রাস্তায় ধুলাবালির কারণে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট হয়। এতে করে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে রিক্সাওয়ালাদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়াও রাস্তার দু’পাশে থাকা দোকানিদের আরও বেশী সমস্যা হয়। তারা ধুলাবালির কারণে রাস্তার পারের দোকান গুলোতে বসে থাকতে পারেনা। এইসব সমস্যা গুলো সমাধানে অচিরেই সড়ক ও জনপদ বিভাগের দায়িত্ব নেয়া দরকার। কারণ ধুলাবালি সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বড় দুর্ভোগ।